Posts

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

Image
  একটি **ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada)** তার খোলস পাল্টাচ্ছে (Molting)। এটি মূলত একটি লার্ভা বা নিম্ফ (Nymph) থেকে পূর্ণাঙ্গ পোকা হওয়ার প্রক্রিয়া।  ১. প্রথম ছবি: খোলস বা নিম্ফ দশা ঝিঁঝিঁ পোকা তার জীবনের অধিকাংশ সময় (প্রজাতিভেদে ২ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত) মাটির নিচে গাছের শিকড় থেকে রস খেয়ে বেঁচে থাকে। প্রথম ছবিতে যে বাদামী রঙের পোকাটি দেখছেন, সেটি হলো সেই নিম্ফ দশা। এই সময় এদের সামনের পাগুলো বেশ শক্ত থাকে যাতে তারা মাটি খুঁড়তে পারে। ২. দ্বিতীয় ছবি: পূর্ণাঙ্গ পোকা হয়ে বের হওয়া যখন পোকাটি বড় হওয়ার সময় হয়, তখন সে মাটি থেকে বের হয়ে গাছের কাণ্ডে শক্ত হয়ে বসে। এরপর তার পিঠের দিকের খোলস ফেটে যায় এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল সবুজ রঙের একটি ঝিঁঝিঁ পোকা বেরিয়ে আসে।(২য় ছবিতে শুধু খালি খোলস দেখা যাচ্ছে, বের হওয়ার পর পরই পোকাটি উড়ে দূরে কোথাও গিয়ে বসেছিলো) ### এই প্রক্রিয়ার কিছু মজার তথ্য: * **উজ্জ্বল সবুজ রঙ কেন?** যখন ঝিঁঝিঁ পোকা তার পুরোনো খোলস থেকে বের হয়, তখন তার শরীর এবং ডানা খুব নরম থাকে। একে **'টেন্যারাল' (Teneral)** দশা বলা হয়। এই সময় এদের গায়ের রঙ খুব উজ্জ্বল সবুজ থাকে। * **ডানা ও শক্ত শরীর:** কয়েক ...

তন্বি ও পাখি

Image
 বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে তন্বি। অপূর্ব সুন্দর আকাশ, ছোট তারা ও এক ফালি চাঁদ। হালকা বাতাসে ফুলগুলো উড়ছে। তন্বির মনটা আজ একটু খারাপ, কারণ তার পুরনো বন্ধু আজ চলে গেল।  দুই মাস আগের কথা— তন্বি তার পরিবারের সাথে নতুন এক জায়গায় থাকতে এল। জায়গাটা তন্বির খুব পছন্দ হলো। বাবা তাকে এখানেই একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি করিয়ে দিলেন।কিন্তু সে তার পুরনো বন্ধুদের খুব মিস করছিল। নতুন স্কুলে তার বন্ধু তেমন হয়ে ওঠেনি, তাই তন্বির দিনগুলো একাকী কাটছিল একদিন তন্বি ও তার মা বারান্দায় বসে গল্প করছিল। হঠাৎ তন্বি লক্ষ্য করল, একটি দোয়েল পাখি বারান্দার কোণে একটি ছোট টিনের কৌটার ভেতর খড়কুটো দিয়ে বাসা তৈরি করছে। তন্বি অবাক হয়ে দেখল— পাখিটি কত কষ্ট করে তার বাসা তৈরি করছে! কয়েক দিন পর তন্বি দেখল, ওই বাসায় ছোট ছোট চারটি ডিম। তন্বির আনন্দ আর ধরে না! সে সারাদিন শুধু ওই পাখির বাসার দিকে তাকিয়ে থাকত। তন্বির মা তাকে বোঝালেন যে, পাখির ডিম স্পর্শ করা উচিত নয়, এতে মা পাখি ভয় পেতে পারে। তন্বি মায়ের কথা মেনে নিল এবং দূর থেকেই পাখিটির যত্ন নিতে শুরু করল। সে বারান্দার এক কোণে পাখির জন্য চাল আর জল রেখে দিত। মা...

বাজরিগর(Budgerigar) পাখি

Image
বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় পাখি বাজরিগর যাকে ইংরেজিতে Budgerigar ও বলা হয়। আমেরিকায় লিট্টল প্যারাকিট নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Melopsittacus Undulatus। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাজরিগারের নাকের ছিদ্রের চারপাশে নীল রংয়ের ঝিল্লি থাকে।পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী বাজরিগারের নাকের ছিদ্রের চারপাশে বাদামি রংয়ের ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা থাকে। তাছাড়া পাখির রং এর উপর ভিত্তি করে নামের পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায় যেমন পাখির গায়ের পালক পুরো সাদা হলে অ্যালবিনো,পুরো হলুদ হলে তাকে লুটিনো বলা হয়,জাপানিজ হাগোরোমো অর্থাৎ জেপি বা হেলিকপ্টার (এদের ডানা ও মাথায় ফুলের মত পালক থাকে) মাঝে মাঝে কালো বাজরিগর ও দেখতে পাওয়া যায় যা খুব দামি এবং দুষ্পাপ্য। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ভিত্তিতে,এদের গড় আয়ু ৫ - ৮ বছর এবং খাঁচায় ১০ - ১২ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে পাখি প্রেমিকের একটি বড় অংশ বাজরিগর পাখিকে পোষ মানিয়ে পালন করে।  এদের ওজন সাধারণত বন্য বাজরিগার ২৫ – ৩৫ গ্রাম এবং খাঁচায় ৩৫ – ৪০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। বাজরিগর পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী এক সময়ে ৪ - ৮ টি ডিম পাড়ে।পাখির দেহের আকার ছোট থাকে বলে কিছু ডিম ...

প্রজাপতি ও পিপি

Image
সকালটা আজ রৌদ্র নয় কিন্তু মিষ্টি। কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিকে। বারান্দার ছোট হাসনাহেনার সুবাসে মিহির ঘরকে আলোকিত করে। গত পরশু মা গাছটি কিনেছে। মিহি আবার গোলাপ ছাড়া কোনো ফুল গাছ রাখতে চায় না। কে জানতো ছোট হাসনাহেনা ফুলটা তার মনে ছোট একটি জায়গা কেঁড়ে নেবে। "মিহি আম্মু খেয়ে রেডি হয়ে নাও" ডাকছে মা। "হ্যা, মা।আসছি " মিহি। মায়ের কথামতো রেডি হয়ে নিলো মিহি।শুক্রবার।আজ স্কুল বন্ধ কিন্তু কোচিং এ পরীক্ষা আছে।এ নিয়ে মিহির মন খারাপের শেষ নেই।মিহি নবম শ্রেণিতে উঠেছে বিজ্ঞান বিভাগে। বিজ্ঞানের সাথে পরিবেশের একটি সুন্দর সম্পর্ক আছে।  হাঁটতে হাঁটতে সে দেখছে সকাল ৭ টা বাজেই মানুষ কাজে নেমে পড়েছে। কেউ শাকসবজি বিক্রি করছে,কেউ ঝাঁড়ু দিচ্ছে। আর আমরা কতো সুন্দরভাবে সকালে ঘুমাই অথচ তাদের কোনো ছুটি নেই।  হঠাৎ তার চোখে পড়লো ছোট পিপির উপর। পিপি কে জানো?দাড়াও বলছি। মিহি আদর করে প্রজাপতিকে পিপি বলে।প্রজাপতিটির গায়ে রং হলুদ তার মধ্যে কারুকার্য, হালকা বাদামি রং এ ডানার চারদিকে চকচকে করছে যেনো। অসম্ভব সুন্দর। এতো কাছে থেকে একটি প্রজাপতি দেখবে আর সে উরে যাবে না তা তো হয় না। পিপি খুব চেষ্টা করেও উড়...

মোরগ ফুল

Image
    মোরগফুল Amaranthaceae পরিবারের ক্রান্তীয় এশিয়ার জাত হলেও এটি বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। বৈজ্ঞানিক নাম: _Celosia argentea var. cristata    মোরগফুলকে মোরগঝুঁটি এবং লালমুর্গা নামেও ডাকা হয়। এই ফুলের মঞ্জরিটি দেখতে মোরগের মাথার ঝুঁটির মতো বলেই এর নাম হয়েছে মোরগঝুঁটি ফুল।    মোরগ ফুল সচরাচর গ্রাম-গঞ্জের আঙিনায়, বসতবাড়ির উঠোনের পাশে, রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় ফুটে থাকে। প্রজাতি ভেদে গাছের পাতা, শাখা-প্রশাখা ও ফুলের রং ভিন্ন হয়। লাল, কমলা, হলুদ, সাদা, সোনালী ও মিশ্ররঙের মোরগফুল দেখতে পাওয়া যায়। ফুল গন্ধহীন, উজ্জ্বল রঙের মোলায়েম পালকের মতো। পরিপক্ব ফুলের মাঝে ডাঁটা বীজের মতো বীজ হয়। ফুলের গুচ্ছাকার তন্তুর মধ্যে বীজ থাকে। বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র। দেখতে একেবারে লাল শাকের বীজের মত। বীজের রং কালচে বাদামি। ৪-৫ টা মোরগফুলের বীজ একত্রিত করলে একটা সরিষা দানার সমান হবে। এর পাতা বেশ লম্বা, শিরা ও মধ্য শিরা স্পষ্ট, অগ্রভাগ সূচালো।    গাছ উচ্চতায় ৪-৭ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের কাণ্ড হতে শাখা-প্রশাখা বের হয়। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড বেশ নরম। সারা গাছে ফুল ফ...

টগর ফুল

Image
   টগর ঝোপঝাড়বিশিষ্ট চিরহরিৎ গাছ। আগে টগরের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ছিল Ervatamia coronaria stapf. এখন বৈজ্ঞানিক নাম _ Tabernaemontana divaricata।  যা Apocynaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি গর্ভশীর্ষ পুষ্প।   এটি এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং সমুদ্রিক দ্বীপপুঞ্জগুলিতে দেখতে পাওয়া যায়।বাংলাদেশের সিলেটে একে দুধফুল বলে ডাকা হয়। এছাড়া এর অন্যান্য প্রচলিত নাম কাঠ মালতী, কাঠমল্লিকা।    সারা পৃথিবীতে এই গণের ৪০ টি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে ৪টি প্রজাতি পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই গাছ ভারত উপমহাদেশে এসেছে    টগর দুই রকম- থোকা টগর ও একক টগর। বাংলাদেশ ও ভারতে এই দুই রকমের টগর পাওয়া যায়। একটি টগরের একক পাপড়ি, অন্যটির গুচ্ছ পাপড়ি। এদেরকে "বড় টগর" ও "ছোট টগর" বলা হয়।   ঝাঁকড়া মাথার জন্য টগর গাছ সুন্দর। ডালগুলোও সোজা ওঠে না, বহু শাখা-প্রশাখা নিয়ে ঝোঁপের মতো বাগানের শোভা বাড়ায়। সুন্দর করে ছেঁটে দিলে চমৎকার ঘন ঝোঁপ হয়। কলম করে চারা করা যায়, আবার বর্ষাকালে ডাল পুতলেও হয়। টগর সমতল ভূমির গাছ। প...

গাঁদা ফুল

Image
    গেঁদা বা গাঁদা বা গন্ধা  হলো একটি সুগন্ধী ফুল যা সর্বত্র সহজে জন্মায় এবং গৃহসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যাস্টারেসিই পরিবারের ট্যাজিটিজ গণের ফুল  গাঁদা ফুল বিভিন্ন জাত ও রঙের দেখা যায়। এই ফুল সাধারণত উজ্জল হলুদ ও গাঢ় খয়েরী হয়ে থাকে। সাধারণত: এটি শীতকালীন ফুল হলেও বর্তমানে এটি গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালেও চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বন ও গৃহসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার ফুলটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। গাঁদাফুলের বৈজ্ঞানিক নাম _ Tagetes erecta _    বাংলাদেশে গৃহস্থ বাগানের সাধারণ ফুল গাঁদা। ১৯৯০-এর দশক থেকে গাঁদা বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। যশোরের গদখালী, ঝিকরগাছা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও পটিয়া, ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় অধিক হারে চাষ হয়। বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের গাঁদা পাওয়া যায়:   আফ্রিকান গাঁদা: এই শ্রেণীর গাঁদা হলুদ রঙের, গাছের আকৃতি বেশ বড়। উল্লেখযোগ্য জাতসমূহ হল: ইনকা, গিনি গোল্ড, ইয়েলা সুপ্রিম, গোল্ডস্মিথ, ম্যান ইন দি মুন, ইত্যাদি। ...