Posts

Showing posts from October, 2023

গল্প

Image
  সকালে কলেজ এ যাওয়ার জন্য বের হতেই খেয়াল করলো রিমি তার সাড়ে তিন বছর বয়সি ভাইটা ঘুম থেকে উঠে আবার শুয়ে পড়েছে। সচরাচর এমন করে না। কাছে গিয়ে কপালে হাত রাখতেই বুঝতে পারলো জ্বর মাকে বলতেই মা বললো বাবাকে বলো ঔষধ আনতে।রিমি তাই করলো নিজেই নিয়ে আসতে পারতো কিন্তু কলেজের জন্য বের হওয়া প্রয়োজন।  কাথাটা ভাই এর শরীরে ঠিক করে দিয়ে কপালে আলতো চুমু খেয়ে বের হয়ে পড়লো।  কলেজ বেশি দূর না। হাটতে হাটতে যেনো কি একটা আশঙ্কায় থমকে দাঁড়ালো। কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিলো।স্থির থাকতে পারছে না।  চলে গেলো  ফরিদ স্যারের কাছে। স্যার তার উদ্বিগ্ন চেহারা দেখেই বুঝতে পারলো আজকেও তাকে রাত জাগতে হবে ওর প্রশ্ন খোঁজার জন্য।  রিমি: স্যার, কিছু প্রশ্ন ছিলো  স্যার: হ্যা বলো। (স্যার ছোট্ট থেকেই রিমিকে চিনে। এককথায় নিজের মেয়ের মতোই দেখে।) রিমি: আচ্ছা স্যার,যারা এতিম পথশিশু বাচ্চা তাদের যখন জ্বর আসে কে ঔষধ কিনে দেয়?  তাদের কপালে কে ভালোবেসে চুৃমু খায়? তাদের কাঁথা কে ঠিক করে দেয় ঘুমানোর সময়?  স্যার: (চুপ)  রিমি : স্যার আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে।  স্যার:( ঝাপসা চোখে চশমাটা খুলে উ...

গল্প

Image
  "আমড়া, আমড়া নিবেন, ১০ টাকা, ১০ টাকা " বাসে উঠেই একনাগাড়ে বলে যাচ্ছে ১২-১৩ বছর বয়সি ছেলেটি।  মায়ের কাঁধে মাথা রেখে চোখ দুটো বন্ধ করে চুপ করে আছে  রেবেকা বেগমের একমাত্র মেয়ে মুন। বাসে যাতায়াত করা খুব কমই হয় ওদের কারণ শরীর খারাপ হয়ে যায় বাচ্চার। আমড়ার ডাক শুনতেই ৮ বছর বয়সি মেয়ে বায়না শুরু করলো অথচ একটু আগেও মাথা ব্যাথা করছিলো বললো।কোনো উপায় না পেয়ে কিনে দিতে হলো। মা নিজের কোলে নিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। আট বছরের মেয়ে কতটুকুই বা নিজে ধরে খেতে পারে। আমড়া বিক্রেতা ছেলেটি কিছুক্ষন ছলছল তাকিয়ে ছিলো।  এই বয়সে থাকতেই একটি দুর্ঘটনায় পরিবারকে হারিয়ে ফেলে ও। কোনো মাকে দেখলেই নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে ওর।  বাস থেকে নেমে গেলো। বড্ড খুদা লেগেছিলো রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া একটি রুটিই তার সম্বল।  রুটি খেতে খেতে দুই ফোঁটা চোখের জল রুটিতে পড়লো। মুছে দেয়ার মতোও কেউ নেই।  একটাই প্রশ্ন করে নিজেকে , আমিও তো পারতাম মা'য়ের কোলে থাকতে, এমন কোনো হলো? অবুঝ বাচ্চাটিকে শান্তনা দিতে কেউ কি এগিয়ে আসবে? আমাদের কি উচিত না তাদের পাশে দাড়ানো?তাদের জীবনটা আমাদের থেকে ও অনেক কঠিন। বাবা মা পাশে ...

গল্প

Image
ছোট্ট গল্প   বাইরে প্রচুর বৃষ্টি। ছাতাটা নিতেও ভুলে গেছে রনি। বাচ্চা ছেলে বলে কিছুই বলে না। বড়ো হলে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে নিজেকে শান্তনা দেয় শফিক চৌধুরী। গাড়ির ড্রাইভার ও অসুস্থ ছুটিতে। হাজারো ব্যস্ততা রেখে  গাড়িটা নিয়েই বেরিয়ে পড়ে স্কুলের উদ্দেশ্য। বৃষ্টির রিমজিম শব্দ যেনো আন্দোলিত করছিলো মনটা। রাস্তার পাশে  লাল কৃষ্ণচূডার গাছ যেনো স্বাগত জানাচ্ছিলো তাকে। রনির মা মারা যাওয়ার পর নিজেকে হারিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত হয়ে করে ফেলেছিলেন তিনি।  কতোদিন বৃষ্টিতে ভেজা হয় না। কিছুক্ষণ পরই রনির স্কুলে চলে এলেন। এই প্রথম তিনি স্কুলে এসেছেন, আশাহত হলেন। তিনি কখনো চান নি তাঁর সন্তান এরকম কোনো স্কুলে পড়ুক। কিন্তু নিজের স্ত্রীর সাথে পেড়ে উঠেন নি। জিজ্ঞেস করলেই বলতো তাঁর ছেলে যেনো সবার সাথে মিশতে পারে গরিব দুঃখী যেনো ভেদাভেদ না করে। কতোই না তর্ক হতো। অথচ ছয় মাস হলো সে নেই। হালকা ব্যথিত হয় এসব মনে করে। ছাতাটা নিয়েই স্কুলের ভিতর চলে যান। ছেলে দাড়িয়ে একটা ছেলের  সাথে। ময়লা টি শার্ট,ব্যাগটাও পুরোনো,এক পা নেই, একহাতে স্কেচ। বোঝাই যাচ্ছে শহরের সব থেকে পুরনো প্রাইমারি স্কুল। রিনাকে যে...

রংধনু সাপ ( Rainbow Snake )

Image
রংধনু সাপ(Rainbow Snake) Scientific classification:  Farancia erytrogramma Kingdom      :Animalia Phylum         :Chordata Subphylum :Vertebrata Class              :Reptilia Order            :Squamata Suborder      :Serpentes Family           :Colubridae Genus           : Farancia Species         : Farancia erytrogramma Photo credit:http://a-z-animals.com বাংলাদেশ ছাড়া ও বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে সাপকে কখনোই ইতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না। সাপ বলতেই একধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয় প্রায় সবার মধ্যে। মনে করা হয়ে থাকে সাপ মানেই,"  সেপাই, কামড় দিলে পাবে না রেহাই "। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে নানা প্রজাতির সাপ মেরে ফেলা হয়। আমরা সব সময় দেখে এসেছি, বৃষ্টির পরপরই রোদের সাথে অভিমান করে এর বিপরীত দিকে আকাশে রংধনু উঠে। "বেনিআসহকলা" শব্দটি দিয়ে সাতটি রং মনে রাখার দ...

Rainbow tree(রংধনু গাছ)

Image
  ইউক্যালিপ্টাস বা রংধনু গাছ বা রামধনু গাছ বৈজ্ঞানিক নাম :  Eucalyptus deglupta Scientific classification Kingdom :Plantae Clade       :Tracheophytes Clade       :Angiosperm Clade       :Rosids Order       :Myrtales Family     :Myraceae Genus     :Eucalyptus Species   : Eucalyptus deglupta photo credit : ডেইলি বাংলাদেশ  Eucalyptus deglupta  নিয়ে প্রথম আলোচিত হয় ১৮৫০ সালে। "Deglupta" একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ খোসা ছাড়ানো, ভূসি করা বা খোসা। বছর জুড়ে এর ছাল উঠতে থাকে তাই এই নাম দেয়া হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন গাছ বলা হয় রংধনু গাছকে ।আকর্ষণীয় রংধনু প্রভাব বিভিন্ন ঋতুর সাথে ধ্রুবক ছন্দে পরিবর্তিত হয়।  Eucalyptus deglupta  এর নামের সাথে রংধনু শব্দটি যুক্ত হওয়ার কারণ মসৃণ বাকলের/ছালের রঙের পরিবর্তনের কারণে।ছালের নিচের সবুজেরঙা ছাল যত পরিপক্ব হতে থাকে ততই ঋতু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রং বদলে হালকা সবুজ, গাঢ়...

সময় পরিক্রমা

Image
 একটু আগেই মায়ের বকুনি খাওয়ার পরও সিফাত বাইরে খেলতে না গিয়ে টিভির সামনে বসে কার্টুন দেখছে।  কারেন্ট নেই বিধায় রাইস কুকার দিয়ে ভাত রাধতে ব্যস্থ মা। একটু পরেই দেখা গেলো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করছেন আদা, রসুন, পিয়াজ। টিচার আসতে পারবে না বাড়ি গেছে তাই মোবাইল নিয়ে বসে পড়তে হলো ক্লাস করার জন্য সদ্য পরীক্ষার্থি রিমুকে। বাইরে খেলাধুলার জায়গায় স্থান পেয়েছে মোবাইল টিভি সফটওয়্যার।  মায়ের সেই মাটির চুলো থেকে রাইস কুকার কিংবা ওভেন স্থান পেয়েছে। পাটাতন সরে গিয়ে ব্লেন্ডার। সাথে অনলাইন ক্লাস তো স্টুডেন্টদের কোচিং এ আসা যাওয়ার সময় বাচিয়ে দিচ্ছে। বদলাচ্ছে সব। নতুন নতুন ডিভাইস আমাদের কাজকে সহজ থেকে সহজ করছে তবে কেনো এখনো আমরা পরিবার কে সময় দিতে পারি না আগের মতো। টুপ টুপ বৃষ্টিভেজা দিনে পরিবারের সবাইকে মিলে খিচুড়ি খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগতো। কিশোরী মেয়েরা কদমফুল গাছ তলায় ভির জমাতো। বসন্ত এলেই শাড়ি আর কাচের চুরিতে নিজেকে খুজে পেতো মেয়েরা। ছেলেরা স্কুল মাঠের হাটুজল পানিতে ফুটবল খেলতে গিয়ে কতোবার হাত, পা কেটে বাড়ি ফিরতো অজানা। স্কুল ছুটি দিলে বাচ্চাদের মায়েদের বাবাদের অস্বস্তি আর কিছু ফিরে আসা...

দৃষ্টিভঙ্গি

Image
 ভোর থেকেই মেঘলা আকাশ। ভাবলাম একটু আকাশটা উপভোগ করা যাক। ছাদে গিয়ে কিছুক্ষন গাছের দিকে মনোযোগ দিয়ে আবার মেঘলা পেজা তুলোর মতো আকাশের দৌড় খেলা দেখতে ব্যস্ত হলাম। কে কার আগে বাতাসের সাথে সমান্তরালে যাবে সেই চেষ্টা। কিন্তু একসময় না একসময় তারা সেই পথ অতিক্রম করছেই। তবে কেনো প্রতিযোগিতা?  সত্যি বলতে, প্রকৃতির নিয়মই হয়তো আরেকজন থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখা। এটা কেউ চাইলে ও ইগনোর করতে পারবে না। প্রকৃতির সব সৃষ্টির মাঝেই এটা বিরাজমান। তবে একটা বিষয় খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন, সেই পেজা তুলোর মতো ছোট্ট ছোট্ট আকাশের খন্ড গুলো কিন্তু কখনো থেমে যায় নি। পিছিয়ে পড়লেও প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যায় আর তারা সবাই পথটা অতিক্রম করে।প্রতিযোগিতায় প্রথম বা বিজয়ী যারা শুধু তারাই সফল না সফল তারাও যারা ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে যায় এবং তার দায়িত্ব পূরণ করে। মানুষের জীবনের ক্ষেত্রেও উদাহরণটি প্রবলভাবে দায়বদ্ধ।  একটি মানুষ পিছিয়ে পড়লে অন্যদের অবস্থান দেখে ঘাবড়ে যায়।  হেরে যাওয়ার ভয় তাকে আকড়ে ধরে। কিন্তু সে ভুলে যায়' হার ' ও প্রতিযোগিতার অংশ। প্রকৃতপক্ষে কেউ হারে না হেরে যায়...