Posts

Showing posts from June, 2024

মোরগ ফুল

Image
    মোরগফুল Amaranthaceae পরিবারের ক্রান্তীয় এশিয়ার জাত হলেও এটি বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। বৈজ্ঞানিক নাম: _Celosia argentea var. cristata    মোরগফুলকে মোরগঝুঁটি এবং লালমুর্গা নামেও ডাকা হয়। এই ফুলের মঞ্জরিটি দেখতে মোরগের মাথার ঝুঁটির মতো বলেই এর নাম হয়েছে মোরগঝুঁটি ফুল।    মোরগ ফুল সচরাচর গ্রাম-গঞ্জের আঙিনায়, বসতবাড়ির উঠোনের পাশে, রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় ফুটে থাকে। প্রজাতি ভেদে গাছের পাতা, শাখা-প্রশাখা ও ফুলের রং ভিন্ন হয়। লাল, কমলা, হলুদ, সাদা, সোনালী ও মিশ্ররঙের মোরগফুল দেখতে পাওয়া যায়। ফুল গন্ধহীন, উজ্জ্বল রঙের মোলায়েম পালকের মতো। পরিপক্ব ফুলের মাঝে ডাঁটা বীজের মতো বীজ হয়। ফুলের গুচ্ছাকার তন্তুর মধ্যে বীজ থাকে। বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র। দেখতে একেবারে লাল শাকের বীজের মত। বীজের রং কালচে বাদামি। ৪-৫ টা মোরগফুলের বীজ একত্রিত করলে একটা সরিষা দানার সমান হবে। এর পাতা বেশ লম্বা, শিরা ও মধ্য শিরা স্পষ্ট, অগ্রভাগ সূচালো।    গাছ উচ্চতায় ৪-৭ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের কাণ্ড হতে শাখা-প্রশাখা বের হয়। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড বেশ নরম। সারা গাছে ফুল ফ...

টগর ফুল

Image
   টগর ঝোপঝাড়বিশিষ্ট চিরহরিৎ গাছ। আগে টগরের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ছিল Ervatamia coronaria stapf. এখন বৈজ্ঞানিক নাম _ Tabernaemontana divaricata।  যা Apocynaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি গর্ভশীর্ষ পুষ্প।   এটি এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং সমুদ্রিক দ্বীপপুঞ্জগুলিতে দেখতে পাওয়া যায়।বাংলাদেশের সিলেটে একে দুধফুল বলে ডাকা হয়। এছাড়া এর অন্যান্য প্রচলিত নাম কাঠ মালতী, কাঠমল্লিকা।    সারা পৃথিবীতে এই গণের ৪০ টি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে ৪টি প্রজাতি পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই গাছ ভারত উপমহাদেশে এসেছে    টগর দুই রকম- থোকা টগর ও একক টগর। বাংলাদেশ ও ভারতে এই দুই রকমের টগর পাওয়া যায়। একটি টগরের একক পাপড়ি, অন্যটির গুচ্ছ পাপড়ি। এদেরকে "বড় টগর" ও "ছোট টগর" বলা হয়।   ঝাঁকড়া মাথার জন্য টগর গাছ সুন্দর। ডালগুলোও সোজা ওঠে না, বহু শাখা-প্রশাখা নিয়ে ঝোঁপের মতো বাগানের শোভা বাড়ায়। সুন্দর করে ছেঁটে দিলে চমৎকার ঘন ঝোঁপ হয়। কলম করে চারা করা যায়, আবার বর্ষাকালে ডাল পুতলেও হয়। টগর সমতল ভূমির গাছ। প...

গাঁদা ফুল

Image
    গেঁদা বা গাঁদা বা গন্ধা  হলো একটি সুগন্ধী ফুল যা সর্বত্র সহজে জন্মায় এবং গৃহসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যাস্টারেসিই পরিবারের ট্যাজিটিজ গণের ফুল  গাঁদা ফুল বিভিন্ন জাত ও রঙের দেখা যায়। এই ফুল সাধারণত উজ্জল হলুদ ও গাঢ় খয়েরী হয়ে থাকে। সাধারণত: এটি শীতকালীন ফুল হলেও বর্তমানে এটি গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালেও চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বন ও গৃহসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার ফুলটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। গাঁদাফুলের বৈজ্ঞানিক নাম _ Tagetes erecta _    বাংলাদেশে গৃহস্থ বাগানের সাধারণ ফুল গাঁদা। ১৯৯০-এর দশক থেকে গাঁদা বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। যশোরের গদখালী, ঝিকরগাছা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও পটিয়া, ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় অধিক হারে চাষ হয়। বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের গাঁদা পাওয়া যায়:   আফ্রিকান গাঁদা: এই শ্রেণীর গাঁদা হলুদ রঙের, গাছের আকৃতি বেশ বড়। উল্লেখযোগ্য জাতসমূহ হল: ইনকা, গিনি গোল্ড, ইয়েলা সুপ্রিম, গোল্ডস্মিথ, ম্যান ইন দি মুন, ইত্যাদি। ...

চেরি ফুল

Image
    পৃথিবীতে অনিদ্য সুন্দর যে জিনিসগুলো রয়েছে তার মধ্যে ফুল হচ্ছে অন্যতম। বৈচিত্র্যে ভরা এই ফুলের রয়েছে আবার নানা প্রজাতি। চেরি ফুলকে আবার সাকুরা নামেও ডাকা হয়। সারা বিশ্বেও এই ফুলের অনেক কদর কারণ, এটা দেখতে এতটাই সুন্দর যে কেউ বিমোহিত না হয়ে পারে না।   চেরি প্রুনাস গণের প্রজাতি। প্রুনাস সেরুলাটা প্রজাতিটির ফুল গোলাপি এবং প্রুনাস স্পেসিওসার রং সাদা। তা ছাড়া অনেক হাইব্রিড প্রজাতি রয়েছে। বাড়ির আঙিনার প্রান্তে, সড়কের দুই পাশে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে খুবই মানানসই গাছ। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় চেরির বেড়ে ওঠা ও প্রস্ফুটন বিরল। চেরি ফল বেশ সুস্বাদু। পাখিরা এ ফল খেতে ভালোবাসে।    জাপানি চেরি ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Prunus serrulata । জাপানিরা আদর করে ডাকেন ‘সাকুরা’ বলে। চেরি ফুল ফুটলে জাপানে ‘হানামি’ উৎসব পালন করা হয়। চেরি ব্লসমকে জাপানের জাতীয় ফুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টোকিওতে চেরি ফুলের বাহার দেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা হলো ইউনো পার্ক। প্রতি বসন্তে হাজার হাজার মানুষ চেরি ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে এখানে আসেন।   গাছ প্রজাতিভেদে গুল্ম থেকে শুরু করে আট ম...

কাঠ গোলাপ

Image
  কাঠগোলাপ  হচ্ছে Apocynaceae পরিবারের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের গণের নাম। ইংরেজি: Frangipani  দ্বিপদ নাম: _ Plumeria _   কাঠগোলাপ মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, ভেনেজুয়েলা ও দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় ফুল। কাঠগোলাপ বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন গুলাচি, গোলাইচ, গোলকচাঁপা, চালতাগোলাপ, গরুড়চাঁপা ইত্যাদি।    গাছটি ৮-১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাঠগোলাপ বিচিত্র গড়নের হয়ে থাকে। ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলও কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির উপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে।   কাঠগোলাপের আকৃতি ও বিকাশ ঠিক রাখার জন্য সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজন। গাছ রোপণের জন্য উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হয়। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পানির প্রয়োজন হয়। কম-বেশি হলে কাঠগোলাপ গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শাখা কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটানো হয়। বসতবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগান এবং বাড়ির ছাদের টবে কাঠগোলাপ গাছ রোপণ করা যায়। 

রজনীগন্ধা ফুল

Image
   সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ফুলগুলির মধ্যে রজনীগন্ধা অন্যতম। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং ফুলদানী সাজাবার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এফুলের নির্যাস হতে সুগন্ধিও তৈরি হয়ে থাকে।  এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম _ Agave amica _ সারা বছরই বাজারে এ ফুলের চাহিদা বেশি থাকে এরং সারা বছরই এ ফুল চাষ হয়ে থাকে। তবে শীতকালে কিছুটা কম ফোটে। রজনীগন্ধার কন্দ লাগিয়ে বংশবৃদ্ধি করা হয় । মার্চ- এপ্রিল মাস কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময়।  রজনীগন্ধার কয়েকটি জাত লক্ষ্য করা যায়৷ যথা : সিঙ্গল: যে সব জাতের ফুলের পাঁপড়ি একটি সারিতে থাকে সে সব জাতগুলি সিঙ্গেল শ্রেনীভুক্ত। একসারি পাপড়িযুক্ত সিঙ্গল জাতের গন্ধ বেশি। সেমি-ডবল: যে সব জাতের ফুলের পাঁপড়ি দুই বা তিন সারিতে থাকে সে জাতগুলিকে সেমি-ডবল। ডবল: তিন-এর অধিক পাঁপড়ির সারি থাকলে সে জাতগুলিকে ডবল শ্রেনীর অন্তভুক্ত করা যায়। তুলনামুলকভাবে কম হয়ে থাকে। ভ্যারিগেটেড জাত: ভ্যারিগেটেড জাতের বেলায় পাতায় হলুদাভ রেখা দেখা যায়৷ কয়েকটি জাতের বাণিজ্যিক নাম হলো- সিগল জাত: পার্ল, বম্বে, ক্যালকাটা, সিংগল মেক্সিকান, ডবল জাত: ডবল পার্ল। 

কেয়া বা কেতকী ফুল

Image
 কেয়া বা কেতকী ইংরেজি: Thatch Screwpine    এর  বৈজ্ঞানিক নাম _ Pandanus tectorius _। এটি Pandanus গণের উদ্ভিদ। এটি মুলত মালয়েশিয়া, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় উদ্ভিদ। সংস্কৃততে এটাকে বলে কেতকী।     কেয়া গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। লম্বায় ৩ থেকে-৪ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ গাছের কাণ্ড গোলাকার এবং কাটাযুক্ত। কাণ্ড থেকে শাখা প্রশাখা বের হয়। এর পাতা ৩ থেকে-৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ৫-৬ সেন্টিমিটার চওড়া হয়।    এটি একটি সুগন্ধি উদ্ভিদ। বাংলায় বিরিয়ানী রান্না কেওড়ার জল ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। কেয়া ফুল থেকেই বাস্পীভবন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কেওড়ার জল (pandanus flower water)।     ফুলকে ভালোবাসে না এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে বিরল। বাঙালির অতি পরিচিত ও ভালোবাসার এমন একটি ফুলের নাম কেয়া। কেয়া না ফুটলে কি বর্ষা হয়? এ কারণে কেয়াকে সাধারণত বর্ষার ফুল বলা হয়। অনেকে এ ফুলকে বর্ষার রানী বলে জানেন। এর সুগন্ধ পাষণ হৃদয়ের মানুষের মনকেও হরণ করে। কেয়া তার সুগন্ধের জন্যই প্রাচীনকাল থেকে সুপরিচিত।   ...

সন্ধ্যামালতী ফুল

Image
   সন্ধ্যামালতী বা সন্ধ্যামনি  হচ্ছে Nyctaginaceae পরিবারের Mirabilis গণের ভেষজ গুল্ম। বৈজ্ঞানিক নাম:_ Mirabilis jalapa _   ইংরেজি নাম: marvel of Peru, four o'clock flower     সন্ধ্যামালতী এমন এক ধরনের ফুল যা সাধারণত বসতবাড়ি সাজানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। সন্ধ্যামালতী বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। সম্ভবত এই ফুল পেরু হতে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যামালতীর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল এতে একটি গাছেই বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটতে পারে। শুধু তাই না, মাঝেমাঝে একই ফুলে বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।      এটি বহুবর্ষজীবী, গুল্মজাতীয়, ঝোপঝাড় উদ্ভিদ। যা প্রায়শই ১ মিটার দৈর্ঘ্যের উচ্চতায় পৌঁছায়, উচ্চতা ২ মিটার অবধি খুব কমই হয়। অঞ্চল ও পরিবেশভেদে এর উচ্চতার পার্থক্য হয়। এর বীজযুক্ত ফলগুলি গোলাকার, কুঁচকানো এবং পরিপক্ব হওয়ার পরে কালো রঙের হয়, প্রথমে সবুজ-হলুদ থাকে কিছুদিন পড়ে রঙ বদলায়। কাণ্ডগুলি ঘন, পূর্ণ, চতুর্ভুজাকার এবং বহু খাজযুক্ত এবং খাজগুলিতে মূলের হয়।     সন্ধ্যামালতীর আদিনিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। তবে অনেক গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চ...