কেয়া বা কেতকী ফুল



 কেয়া বা কেতকী

ইংরেজি: Thatch Screwpine 

  এর  বৈজ্ঞানিক নাম _Pandanus tectorius_। এটি Pandanus গণের উদ্ভিদ। এটি মুলত মালয়েশিয়া, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় উদ্ভিদ। সংস্কৃততে এটাকে বলে কেতকী। 



   কেয়া গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। লম্বায় ৩ থেকে-৪ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ গাছের কাণ্ড গোলাকার এবং কাটাযুক্ত। কাণ্ড থেকে শাখা প্রশাখা বের হয়। এর পাতা ৩ থেকে-৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ৫-৬ সেন্টিমিটার চওড়া হয়।



   এটি একটি সুগন্ধি উদ্ভিদ। বাংলায় বিরিয়ানী রান্না কেওড়ার জল ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। কেয়া ফুল থেকেই বাস্পীভবন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কেওড়ার জল (pandanus flower water)। 

   ফুলকে ভালোবাসে না এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে বিরল। বাঙালির অতি পরিচিত ও ভালোবাসার এমন একটি ফুলের নাম কেয়া। কেয়া না ফুটলে কি বর্ষা হয়? এ কারণে কেয়াকে সাধারণত বর্ষার ফুল বলা হয়। অনেকে এ ফুলকে বর্ষার রানী বলে জানেন। এর সুগন্ধ পাষণ হৃদয়ের মানুষের মনকেও হরণ করে। কেয়া তার সুগন্ধের জন্যই প্রাচীনকাল থেকে সুপরিচিত। 



  কেয়া ফুল জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুটতে শুরু করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসজুড়ে ফোটে। এটির বেশি দেখা মেলে সেন্টমার্টিন ও সুন্দরবনে। নোনাপানির ধারঘেঁষে শ্বাসমূলে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকে কেয়া গাছ। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী বা সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে কেয়াবন। 



  ইদানীংকালে পাবনার বেড়া উপজেলার ভাটি অঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িতে এ ফুল দেখতে পাওয়া যায়। শৌখিন ফুলপ্রেমীরা বাগানে, ঘরের দক্ষিণা জানালার পাশে, বাড়ির আঙিনায়. ছাদের টবে অতি যতেœ লাগিয়েছেন। আবার অনাদর আর অযতেœও বেড়ে উঠেছে অনেকের বাড়িতে।



   লক্ষণীয় বিষয় হলো এখানকার বেশির ভাগ ফুলই পুরুষ প্রজাতির সাদা রঙের ও সুগন্ধযুক্ত। স্ত্রী কেয়ার রঙ সোনালি। যার নাম স্বর্ণ কেয়া। স্ত্রী ফুল থেকে আনারসের মতো ফল হয়, যা অনেকে খেয়ে থাকেন। এটি এক লিঙ্গীক ফুল। 



  কেয়া ফুল থেকে তৈরি সুগন্ধি কেওড়া তেল মাথার খুশকি দূর করে। প্রতিদিন শোবার আগে মাথায় মাখলে অনিদ্রা কেটে যায়। কেয়া বীজের রস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে যকৃতের সমস্যায় ভালো উপকার পাওয়া যায়। ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর পাতার রস বিশেষ উপকারী। 



  বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় কেয়াফুল থেকে বানানো হয় কেওড়া জল, যা ভোজনরসিকদের রসনাবিলাসে ভূমিকা রাখে। কেওড়া জল ছাড়া বিরিয়ানি, পোলাও যেমন ঠিক জমে না, তেমনি কেক, মিষ্টি, পায়েস রান্নায়ও কেওড়ার এসেন্স নিয়ে আসে ভিন্নমাত্রা। 

Comments

Popular posts from this blog

তন্বি ও পাখি

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

প্রজাপতি ও পিপি