চেরি ফুল

 


  পৃথিবীতে অনিদ্য সুন্দর যে জিনিসগুলো রয়েছে তার মধ্যে ফুল হচ্ছে অন্যতম। বৈচিত্র্যে ভরা এই ফুলের রয়েছে আবার নানা প্রজাতি। চেরি ফুলকে আবার সাকুরা নামেও ডাকা হয়। সারা বিশ্বেও এই ফুলের অনেক কদর কারণ, এটা দেখতে এতটাই সুন্দর যে কেউ বিমোহিত না হয়ে পারে না।



  চেরি প্রুনাস গণের প্রজাতি। প্রুনাস সেরুলাটা প্রজাতিটির ফুল গোলাপি এবং প্রুনাস স্পেসিওসার রং সাদা। তা ছাড়া অনেক হাইব্রিড প্রজাতি রয়েছে। বাড়ির আঙিনার প্রান্তে, সড়কের দুই পাশে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে খুবই মানানসই গাছ। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় চেরির বেড়ে ওঠা ও প্রস্ফুটন বিরল। চেরি ফল বেশ সুস্বাদু। পাখিরা এ ফল খেতে ভালোবাসে। 



  জাপানি চেরি ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Prunus serrulata । জাপানিরা আদর করে ডাকেন ‘সাকুরা’ বলে। চেরি ফুল ফুটলে জাপানে ‘হানামি’ উৎসব পালন করা হয়। চেরি ব্লসমকে জাপানের জাতীয় ফুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টোকিওতে চেরি ফুলের বাহার দেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা হলো ইউনো পার্ক। প্রতি বসন্তে হাজার হাজার মানুষ চেরি ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে এখানে আসেন।



  গাছ প্রজাতিভেদে গুল্ম থেকে শুরু করে আট মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কোনো কোনো জাতের গাছ পাতা ও ডালপালায় বেশ ঝোপালো ধরনের। পাতা ৮ থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা, আগা আয়তাকার বা তীক্ষ। ফল দুই সেন্টিমিটার, সাধারণত লালচে বা কালো।



  গুচ্ছবদ্ধ ফুলগুলো সাধারণত গোলাপি, সাদা ও লাল রঙের হয়। পাপড়ি ও ফুলের গড়ন বিচিত্র। ফুল-ফল মিলিয়ে সারা পৃথিবীতে ৪৫০ জাতের চেরি পাওয়া যায়। পরাগরেণুতে মধু থাকায় ফুল ফুটলেই মৌমাছিরা ভিড় জমায়। ফোটা ফুল অনেকদিন পর্যন্ত টিকে থাকে। ফুল ঝরে পড়ার পর নতুন পাতায় সবুজ রূপ ধারণ করে।



  মার্চ মাসের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু জাপানে চেরি ফুল ফোটার মৌসুম। এর মধ্যে দিয়ে জাপানে নতুন বছরের শুভসূচনা ঘটে। অল্প কয়েকদিন স্থায়ী হলেও বেশিরভাগ জাপানিজের কাছে বছরের সবচেয়ে সুন্দর সময় হলো চেরি ফুল ফোটার মৌসুম।



  জাপান, চীন, কোরিয়া ও রাশিয়া থেকে এ চেরি ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের নানান দেশে। এ ফুলের সৌন্দর্য নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক কবিতা ও গল্প। দুই রঙের চেরি ফুল জার্মানিতে দেখা যায়। সাদা ও মিষ্টি গোলাপি। তবে আবেদনের গভীরতায় গোলাপি রঙের চেরি এগিয়ে। সাদাও বেশ রাজকীয়। পৃথিবীর অন্যতম সুখী জাতি জাপানিদের জাতীয় ফুল এ সাদা রঙের চেরি।




  টক ও মিষ্টি চেরির গাছ প্রায় একই রকম। পার্থক্য শুধু স্বাদে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৫০টির বেশি জাতের টক চেরির চাষ হতো। এপ্রিকট, চেরি ও নাশপাতির ফুল দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু ফুল দেখে ফলের জাত আলাদা করা কঠিন। সারা পৃথিবীতে চেরি ফুল ও ফলের এতই রকমফের যে একটির সঙ্গে অন্যটির পার্থক্য অতি সূক্ষ্ম।



  পৃথিবীতে প্রকৃতির বুকে যত ফুল ফোটে, তার মধ্যে চেরি খুবই প্রভাব বিস্তারকারী একটি ফুল। মানুষ এ ফুল ফোটাকে ঘিরে চেরি উৎসব পালন করে। চেরি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক জাপান ও কোরিয়ায় ভ্রমণ করেন।

  হয়তো আমাদের বাংলাদেশের বনে এখনো বসন্তে ফোটা গাঢ় কমলা পলাশ, সিঁদুররাঙা পারিজাত এবং চিরচেনা লাল রঙের শিমুল ফুটে আছে। তারাও চেরি মতোই মায়াবী ও ভালোবাসার। 



  শরীরতত্ত্ববিদ ডা. গ্লায়ন হোওয়াটসন বলেন, ‘আগে আমরা কষ্টকর ব্যায়ামের পর টক চেরির জুস পান করতাম,যাতে শক্তি ফিরে পাই, তবে বর্তমানের পরীক্ষা দ্বারা দেখা যাচ্ছে, এর আরেকটি গুণও রয়েছে, তাহলো, চেরি জুস ঘুম সহজ করে দেয়, বিশেষ করে যাদের অনিদ্রা রয়েছে বা কাজের চাপে ঠিকমতো ঘুম হয় না।

 






Comments

Popular posts from this blog

তন্বি ও পাখি

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

প্রজাপতি ও পিপি