গল্প

 


সকালে কলেজ এ যাওয়ার জন্য বের হতেই খেয়াল করলো রিমি তার সাড়ে তিন বছর বয়সি ভাইটা ঘুম থেকে উঠে আবার শুয়ে পড়েছে। সচরাচর এমন করে না। কাছে গিয়ে কপালে হাত রাখতেই বুঝতে পারলো জ্বর মাকে বলতেই মা বললো বাবাকে বলো ঔষধ আনতে।রিমি তাই করলো নিজেই নিয়ে আসতে পারতো কিন্তু কলেজের জন্য বের হওয়া প্রয়োজন। 

কাথাটা ভাই এর শরীরে ঠিক করে দিয়ে কপালে আলতো চুমু খেয়ে বের হয়ে পড়লো। 



কলেজ বেশি দূর না। হাটতে হাটতে যেনো কি একটা আশঙ্কায় থমকে দাঁড়ালো। কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিলো।স্থির থাকতে পারছে না। 

চলে গেলো  ফরিদ স্যারের কাছে। স্যার তার উদ্বিগ্ন চেহারা দেখেই বুঝতে পারলো আজকেও তাকে রাত জাগতে হবে ওর প্রশ্ন খোঁজার জন্য। 

রিমি: স্যার, কিছু প্রশ্ন ছিলো 

স্যার: হ্যা বলো।

(স্যার ছোট্ট থেকেই রিমিকে চিনে। এককথায় নিজের মেয়ের মতোই দেখে।)

রিমি: আচ্ছা স্যার,যারা এতিম পথশিশু বাচ্চা তাদের যখন জ্বর আসে কে ঔষধ কিনে দেয়? 

তাদের কপালে কে ভালোবেসে চুৃমু খায়? তাদের কাঁথা কে ঠিক করে দেয় ঘুমানোর সময়? 

স্যার: (চুপ) 

রিমি : স্যার আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে। 

স্যার:( ঝাপসা চোখে চশমাটা খুলে উঠে দাড়ালো। জানালার গ্রীল ধরে দূর কোথাও চোখ রেখে হারিয়ে গেছে এমন। পিতৃত্ব হৃদয়টা কেপে উঠলো যেনো।)

রিমি: স্যার আপনি খুঁজে আমাকে বলবেন।

স্যার: হাজার রাত জাগলেও এই প্রশ্নের উত্তর পাবো না রিমি।

#পথশিশু

@Little Sparrow 

Tasfia

Comments

Popular posts from this blog

তন্বি ও পাখি

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

প্রজাপতি ও পিপি