Rainbow tree(রংধনু গাছ)
ইউক্যালিপ্টাস বা রংধনু গাছ বা রামধনু গাছ
বৈজ্ঞানিক নাম : Eucalyptus deglupta
Scientific classification
Kingdom :Plantae
Clade :Tracheophytes
Clade :Angiosperm
Clade :Rosids
Order :Myrtales
Family :Myraceae
Genus :Eucalyptus
Species :Eucalyptus deglupta
photo credit : ডেইলি বাংলাদেশ
Eucalyptus deglupta নিয়ে প্রথম আলোচিত হয় ১৮৫০ সালে। "Deglupta" একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ খোসা ছাড়ানো, ভূসি করা বা খোসা। বছর জুড়ে এর ছাল উঠতে থাকে তাই এই নাম দেয়া হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন গাছ বলা হয় রংধনু গাছকে ।আকর্ষণীয় রংধনু প্রভাব বিভিন্ন ঋতুর সাথে ধ্রুবক ছন্দে পরিবর্তিত হয়। Eucalyptus deglupta এর নামের সাথে রংধনু শব্দটি যুক্ত হওয়ার কারণ মসৃণ বাকলের/ছালের রঙের পরিবর্তনের কারণে।ছালের নিচের সবুজেরঙা ছাল যত পরিপক্ব হতে থাকে ততই ঋতু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রং বদলে হালকা সবুজ, গাঢ় লাল, কমলা থেকে শুরু করে ধূসর বাদামি ও বেগুনি হতে পারে। গাছের গুড়িতে এই রংয়ের আধিক্য দেখা যায়। প্রবাদে আছে, এক অঙ্গে কত রং ধর হে।
গাছের রং বদলায় এর বাকলের বয়সের উপর ভিত্তি করে। বয়স বাড়ার সাথে প্রথমে উজ্জ্বল সবুজ হতে আস্তে আস্তে গাড় নীল হতে থাকে। সারা বছর ধরেই গাছের বাকল/ছালে নানা রং এর কষ উৎপন্ন হতে দেখা যায়। মূলত এই কারণে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রং ফুটে উঠে। একে এর জন্য রংধনু গাম ও বলা হয়।
মানুষকে অবাক করার সুযোগ প্রকৃতি কখনো ছাড়ে না। নিজেকে রাঙিয়ে দিয়ে যুগ যুগ ধরে দাঁডিয়ে আছে গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল গুলোতে যেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি। ইন্দোনেশিয়া, মিন্ডানা,নিউ হ্যামেস্ফেয়ার,নিউ বৃটেন, নিউ জিনিয়া,দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়াতে পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত এর জন্য দায়ী। এর প্রকৃত আবাস ফিলিপাইনের দ্বীপ মিন্ডানাও।গাছটি মিন্ডানাও গাম নামেও পরিচিত।
আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত ইউক্যালিপটাস রয়েছে ৩ প্রজাতির
১.Eucalyptus camaldulnesis
২. Eucalyptus brassiana
৩. Eucalyptus terreticornisতবে কোনো প্রজািতির ছালের রং রংধনু গাছের মতো হয়না কারণ এই প্রজাতির আদিবাসিন্দা উত্তরগোলার্ধে। রেইন ফরেস্টে উৎপন্ন হয়ে বৃষ্টিপাতের অন্যতম কারণ এই ইউক্যালিপটাস।
ওয়াল্ট অ্যাগ্রো ফরেস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী এটি একটি চিরহরিৎ গাছ। এবং বিশ্বের সব চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল গাছের একটি। উত্তর গোলার্ধের মতো কঠিন সময়ে পর্ণমোচী হয় কিন্তু এর সারাবছরই পাতা থাকে।একে "স্ক্লোরোফিল" হিসেবে বর্ণনা করা হয় যার অর্থ কঠিন পাতা। লিগনিনের কারণে পাতা পুরু হয়,চামড়াযুক্ত ও শক্ত হয় এবং সহজে ঝরে যায় না। বিচিত্র রঙের রেখার কান্ড এই গাছকে দেয় একটি স্বতন্ত্র সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ।
সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি এ জাতীয় ইউক্যালিপ্টাস পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও রোপণ শুরু হয়েছে।এটি পূর্ণ রোদে সমৃদ্ধ মাঝারি থেকে আদ্র মাটিতে বৃদ্ধি পায়, তুষারপাতের প্রতি অসহিষ্ণু। এবং এটি দোআঁশ মাটিতে হয়ে থাকে যার pH (৫.৬-৬.০)। এর আদর্শ স্থান মিষ্টি জলের ধারে, হৃদ, খালের কাছে।
যে এলাকার তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে সেই জায়গাই Eucalyptus deglupta এর জন্য উপযুক্ত। এর থেকে কম বা বেশি হলে এই প্রজাতির ইউক্যালিপ্টাসের বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না।আপনি যদি আপনার বাগানে এই প্রজাতির গাছ রাখতে চান তো বুঝতেই পারছেন কি করতে হবে!
Photo credit :sciencefriday.com
ফুল :অ্যাক্সিলারি বা টার্মিনাল যৌগিক পুষ্পমঞ্জুরিত ক্ষুদ্র সাদা ফুল জায়গার উপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন সময় ফুটে থাকে।
সাধারণত ৬০ থেকে ৭৫ মিটার বা ২০০ হতে ২৫০ ফুট উচু হয়ে থাকে একেকটি গাছ। পাল্পউড বাগানে একটি প্রভাবশালী প্রজাতি। তারা প্রাকৃতিকভাবে কীটপতঙ্গ রোগের প্রতিরোধী এবং অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে উঠে প্রতি বছর ৩ ফুট পর্যন্ত বা তার ও বেশি। প্রস্থে ৭.৯ ফুট পর্যন্ত হয় এবং ব্যাস ২৪০ সেন্টিমিটার হয়।
Eucalyptus deglupta প্রজাতির গাছ থেকে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে মূল্যবান উপাদান সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এর মাঝে সাদা কাগজ অন্যতম।সাদা কাগজের মন্ড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ফিলিপাইন এবং কোস্টারিকায় এ গাছের চাষ করা হয় মূলত কপি বাগানে। Eucalyptus deglupta এর ছায়া কপি চাষের জন্য উপযোগী। এর কাঠ ফার্নিচার ও ক্যাবিনেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। হাওয়াইয়ে এই রংধনু গাছের কাঠ নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ গাছ বাতাসের নাইট্রোজেন গ্রহণ করে মাটি উর্বর করে তোলে। তাই চা বাগানে গাছটির কদর বেশি। শালবনে এ গাছ লাগানোর ফলে মাটি উর্বরতা ফিরে পেয়েছে।এ গাছের কপিসিং হয়। তাই গাছ কাটার পর পুনরায় গাছ লাগানোর প্রয়োজন হয় না। গোড়া থেকে গাছ হয়ে যায়।
এই গাছের সুগন্ধের কারণে পারফিউম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গাছটি কখনো কখনো টেরপেনয়েড নামক বাষ্পযুক্ত উদ্বায়ী জৈব যৌগের ধোঁয়াশা সদৃশ কুয়াশা নির্গত করে। বর্শা আকৃতির রুপালী ৬ ইঞ্চি সবুজ পাতা হতে গুড়ো করে সুগন্ধি তৈরি হয়।পাতায় এমন গ্রন্থি রয়েছে যা তেল তৈরিতে সাহায্য করে। এই গাছের ছোট ছোট ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করে থাকে। সেন্টার ফর কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন রংধনু গাছের বা Eucalyptus deglupta এর তেলকে মশা তাড়ানোর কার্যকর উপাদান হিসেবে অনুমোদন করেছে।এই গাছ হতে ট্যনিন ও পাওয়া যায়।
Photo credit :ডেইলি বাংলাদেশ
ভালো মন্দ সব কিছুতেই থাকে। ঠিক তেমনই Eucalyptus deglupta এর গুনাগুন যেমন আছে তেমনি মারাত্মক রূপ ও আমরা দেখতে পাই। মাটি থেকে অতিমাত্রায় পানি শোষণ করে এতে তার আশেপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট পানি শোষণ করে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেয়। সব সময় এমন চলতে থাকে বিধায় পানিশূন্যতা দেখা দেয় যা আশেপাশের গাছ-পালা জীবিত থাকার হার হ্রাস পায়।এই গাছের ফুল ও ফল ঝরে পড়লে সেখানের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। মানুষের শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট ও হার্টের অসুখ সৃষ্টি করে। যেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০০ মিলিমিটারের কম সেখানে এই গাছ লাগানো হয় না এতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়।ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনভেনশন অব নেচার ২০১৯ সালে Eucalyptus deglupta কে ঝুকিঁপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
Photo credit :www.bd24live.com
সবকিছুর পরও সৌন্দর্যের কারণে অনেক স্থানে রংধনু গাছের বনসাই তৈরিতে উৎসাহিত হতে দেখা যায় বাগানিদের। এটি সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। চিরহরিৎ গাছটি আর যাই হোক বিনা রং-তুলিতে আকাঁ প্রাকৃতিক ক্যানভাস বললে ভুল হবে না!




Comments
Post a Comment