সময় পরিক্রমা


 একটু আগেই মায়ের বকুনি খাওয়ার পরও সিফাত বাইরে খেলতে না গিয়ে টিভির সামনে বসে কার্টুন দেখছে। 

কারেন্ট নেই বিধায় রাইস কুকার দিয়ে ভাত রাধতে ব্যস্থ মা।

একটু পরেই দেখা গেলো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করছেন আদা, রসুন, পিয়াজ। টিচার আসতে পারবে না বাড়ি গেছে তাই মোবাইল নিয়ে বসে পড়তে হলো ক্লাস করার জন্য সদ্য পরীক্ষার্থি রিমুকে।

বাইরে খেলাধুলার জায়গায় স্থান পেয়েছে মোবাইল টিভি সফটওয়্যার। 

মায়ের সেই মাটির চুলো থেকে রাইস কুকার কিংবা ওভেন স্থান পেয়েছে। পাটাতন সরে গিয়ে ব্লেন্ডার। সাথে অনলাইন ক্লাস তো স্টুডেন্টদের কোচিং এ আসা যাওয়ার সময় বাচিয়ে দিচ্ছে। বদলাচ্ছে সব। নতুন নতুন ডিভাইস আমাদের কাজকে সহজ থেকে সহজ করছে তবে কেনো এখনো আমরা পরিবার কে সময় দিতে পারি না আগের মতো।

টুপ টুপ বৃষ্টিভেজা দিনে পরিবারের সবাইকে মিলে খিচুড়ি খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগতো। কিশোরী মেয়েরা কদমফুল গাছ তলায় ভির জমাতো। বসন্ত এলেই শাড়ি আর কাচের চুরিতে নিজেকে খুজে পেতো মেয়েরা। ছেলেরা স্কুল মাঠের হাটুজল পানিতে ফুটবল খেলতে গিয়ে কতোবার হাত, পা কেটে বাড়ি ফিরতো অজানা। স্কুল ছুটি দিলে বাচ্চাদের মায়েদের বাবাদের অস্বস্তি আর কিছু ফিরে আসার আনন্দ। 

সেই বাণী : ছুটি গরম গরম রুটি এক কাপ চা সবাই মিলে খা। এখন আর শোনা যায় না।

অদ্ভুত, সব কিছু বদলাচ্ছে। একটু একটু করে পরিবার পরিজন সবার থেকে ভালোবাসা কমছে শুধুই যেনো কমছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই যেনো ফুটে ওঠে বাস্তবে না।তাই না?সবই বদলাচ্ছে সাথে মানুষ ও।

‌‌~সময় পরিক্রমা 

Comments

Popular posts from this blog

তন্বি ও পাখি

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

প্রজাপতি ও পিপি