বাজরিগর(Budgerigar) পাখি




বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় পাখি বাজরিগর যাকে ইংরেজিতে Budgerigar ও বলা হয়। আমেরিকায় লিট্টল প্যারাকিট নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Melopsittacus Undulatus।

পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাজরিগারের নাকের ছিদ্রের চারপাশে নীল রংয়ের ঝিল্লি থাকে।পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী বাজরিগারের নাকের ছিদ্রের চারপাশে বাদামি রংয়ের ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা থাকে।

তাছাড়া পাখির রং এর উপর ভিত্তি করে নামের পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায় যেমন পাখির গায়ের পালক পুরো সাদা হলে অ্যালবিনো,পুরো হলুদ হলে তাকে লুটিনো বলা হয়,জাপানিজ হাগোরোমো অর্থাৎ জেপি বা হেলিকপ্টার (এদের ডানা ও মাথায় ফুলের মত পালক থাকে) মাঝে মাঝে কালো বাজরিগর ও দেখতে পাওয়া যায় যা খুব দামি এবং দুষ্পাপ্য।



বৈজ্ঞানিক গবেষণা ভিত্তিতে,এদের গড় আয়ু ৫ - ৮ বছর এবং খাঁচায় ১০ - ১২ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে পাখি প্রেমিকের একটি বড় অংশ বাজরিগর পাখিকে পোষ মানিয়ে পালন করে।  এদের ওজন সাধারণত বন্য বাজরিগার ২৫ – ৩৫ গ্রাম এবং খাঁচায় ৩৫ – ৪০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।

বাজরিগর পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী এক সময়ে ৪ - ৮ টি ডিম পাড়ে।পাখির দেহের আকার ছোট থাকে বলে কিছু ডিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে।ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ১৮ - ২১ দিন সময় লাগে।সাধারণত ৫ - ৮ মাস বয়সে এরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়।


বাজরিগর সাধারণত বীজ খাদ্য (বীজ) গ্রহণকারী টিয়া জাতীয় পাখি, তবে এদের সুস্থ রাখতে প্রকৃতির আলো বাতাসের পাশাপাশি নিয়মিত খাদ্যবাস খুব প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, পাখির সুস্থতা এবং সৌন্দর্য অধিকাংশ নির্ভর করে পাখিকে কতটুকু সুষম খাদ্য দেয়া হচ্ছে তার উপর। এরা সূর্যমূখী,ফলের বীজ এবং তুলসী পাতা খেতে বেশি পছন্দ করে। পোষা অবস্থায় খাদ্য হিসেবে কাউন, ছোট ধান, ভাত, ফল ও অন্যান্য শাক-সবজি খায়।



বাজরিগর অত্যন্ত সামাজিক পাখি এবং বন্য পরিবেশে শত শত বা হাজার হাজার পাখির দলে বাস করে। খাঁচায় থাকলেও এরা সঙ্গীর সাহচর্য পছন্দ করে এবং একা থাকলে ডিপ্রেশনে ভুগতে পারে।

বাজরিগর খুব ভালো কণ্ঠস্বর নকল করতে পারে (Mimic vocals) এবং মানুষের কথা বা বিভিন্ন শব্দ হুবহু অনুকরণ করতে পারে। পুরুষ বাজরিগাররা ৫০০০-এর বেশি শব্দ শিখতে সক্ষম বলে জানা যায়।পাখি ছোটো থেকে সঠিক ট্রেনিং পেলে শেখানো শব্দ অনেকটা স্পষ্ট ভাবে বলতে পারে। এরা টিয়া পাখির জাত হওয়ায় যথেষ্ট বুদ্ধিমান প্রকৃতির এবং সঙ্গপ্রীয়।

এরা খুব দ্রুত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং মানুষের সাথে সহজে বন্ধুত্ব করতে পারে (Tameable)।বাজরিগাররা সাধারণত জোড়ায় বাস করে এবং আজীবনের জন্য সঙ্গী বেছে নেয়।

যারা শুধু একটি পাখি পালন করতে চান তাদের উচিত  একা থাকা পাখিকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন তাকে কয়েক ঘণ্টা সময় দিতে হয়। তার সাথে কথা বলা, শিস দেওয়া এবং খেলার মাধ্যমে তাকে একাকীত্ব অনুভব করতে দেওয়া যাবে না। 



খাঁচায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা (যেমন- ঘণ্টা, দোলনা, বা চিবানোর মতো জিনিস) রাখতে হবে যাতে সে একঘেয়েমি অনুভব না করে। নিয়মিত খেলনাগুলো পরিবর্তন করে দিলে সে নতুনত্ব খুঁজে পাবে। 

 প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা তাকে ঘরের ভেতর নিরাপদ পরিবেশে ডানা মেলার সুযোগ দিতে হবে। এটি তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

আপনি যখন বাড়িতে থাকবেন না, তখন হালকা ভলিউমে রেডিও বা গান চালিয়ে রাখতে পারেন। বাইরের শব্দ বা গান তাদের সঙ্গ দেওয়ার কাজ করে।

অতিরিক্ত গরমে স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে পাখিকে জলে গুলে ও.আর.এস খাওয়ানো উচিতবিশেষত বর্ষাকালে কখনো চোখের সংক্রমণ হয়, চোখ দিয়ে জল পড়ে। শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ হলে ক্রমাগত দ্রুত শ্বাস নেয়। এছাড়া মাইটের আক্রমণ হতে পারে।

খাঁচায় পোষা পাখিকে বছরে অন্তত দু বার করে কৃমির ঔষধ দেয়া উচিত।অপেক্ষাকৃত শীতল স্থানে রাখতে হবে। পাখির কোনো সমস্যা লক্ষ্য করলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। 


Photo Credit : ছবিগুলো আমার টুনি ও টুনির বউ এর। 


Comments

Popular posts from this blog

তন্বি ও পাখি

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

প্রজাপতি ও পিপি