জোনাকি পোকা (নিপ্পোনোলুসিওলা ক্রসিয়াটা)
ল্যামপিরিডি পতঙ্গ পরিবারের একটি গুবরে পোকা বর্গ হল কলিওপ্টেরা। বাংলায় এর নাম তমোমণি। এরা মূলত পাখাওয়ালা গুবরে পোকা যাদেরকে সাধারণভাবে জোনাকি পোকা বলা হয়।
জোনাকী এক প্রকারের পতঙ্গ। এই পতঙ্গের তলপেটে স্বয়ংপ্রভ নীলাভ-সবুজ দ্যুতি থাকে। রাতের অন্ধকারে এদের তারার মত মিটমিট করতে দেখা যায়। এরা সমবেতভাবে এক ছন্দে মিটমিট করতে পারে।
পৃথিবীতে লাল ও সবুজ আলোর জোনাকি পোকা দেখা যায়। জোনাকি পোকা সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে দেখা যায়। অন্ধকারে এরা মিটমিট করে আলো জ্বালতে থাকে।
সাধারনত এদের শুককীটও luminescent হয়। প্রতি মিনিটে জোনাকী পোকা ১২০ বার জ্বলে এবং নেভে। একটি বাতি থেকে উৎপন্ন শক্তির শতকরা ১০ ভাগ আলো আর ৯০ ভাগ উত্তাপ। কিন্তু জোনাকিদের উৎপন্ন শক্তির শতকরা ১০০ ভাগই আলো। একটি জোনাকির শরীরের ওজনের অর্ধেকটাই বাতির ওজন। জোনাকিরা দিনের বেলায়ও জ্বলে-নেভে। সূর্যের আলোর জন্য আমরা দেখতে পাই না।
লেডিবার্ডগুলির মধ্যে প্রায় 97 প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে 80টি উপকারী। দেশে ২০ প্রজাতির ফায়ারফ্লাইও আবিষ্কৃত হয়েছে ।
জোনাকির খাদ্য: সর্বভুক ,গড় আয়ু: প্রায় 2 মাস, আয়তন: 1 থেকে 2.5 সেমি
এদের পাখা আর মাথায় হলুদ লম্বা দাগ আছে। ছয়টা পা, দু’টো অ্যান্টেনা, অক্ষিগোলক আর শরীরটা তিন ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি জোনাকি শরীরের শেষ ভাগে একটা করে বাতি নিয়ে ঘোরে। প্রত্যেক প্রজাতির জোনাকি পোকার আলো কিন্তু এক রকম নয়, আলাদা
নারী জোনাকি মাটিতে তাদের ডিম বা শুককীট জমা রাখে। এবং শুককীটকে একটি numbing fluid এর মাধ্যমে খাওয়ায়। একাজে বড়রা বা পূর্ণবয়স্ক জোনাকিরা সাহায্য করে। এছাড়া অনেক পূর্ণবয়স্ক জোনাকিরা আছে যেগুলো কোন কিছুই খায় না।
ওদের কেউ শিকার করতে এলে ওরা এক ফোঁটা রক্ত ছেড়ে দেয়। সেই রক্তবিন্দু যেমন তিতা তেমনি বিষাক্ত। তাই ওদের আর কেউ শিকার করতে আগ্রহ দেখায় না। এমনকি টিকটিকি, সাপও ওদের শিকার করতে সাহস পায় না। তাই বলে ভেব না যে ওরা দুর্বোধ্য, কেউই ওদের বধ করতে পারে না। বাদুড়ের সঙ্গে ওরা পেরে ওঠে না। রাতে বাদুড় বেশ ভালোই দেখতে পায়। তার ওপর আবার জোনাকিরা যখন আলো জ্বেলে চলাফেরা করে তখন বাদুড় ওদের শিকার করে খায়।





Comments
Post a Comment