অপরাজিতা ফুল
অপরাজিতা
হচ্ছে ফ্যাবেসি (Fabaceae) প্রজাতির একটি ফুল।
বৈজ্ঞানিক নাম:_Clitoria ternatea_
ইংরেজিতে Asian pigeonwings,bluebellvine, blue pea, butterfly pea, cordofan pea এবং Darwin pea বলে।
ফুলটি গাঢ় নীল রঙের, কিন্তু নিচের দিকটা (এবং ভেতরটা) সাদা, কখনো বা একটু হলদে আভা যুক্ত হয়। প্রকৃতিতে দুর্লভ প্রজাতির দ্বৈত পাপড়ির (Double Petal) অপরাজিতা ফুল ও দেখতে পাওয়া যায়। আপরাজিতা গাছ লম্বায় বেশ বড় হয়। এর সবুজ পাতার মাঝে সুন্দর ফুলটি দেখা যায়। এটি লতানো উদ্ভিদ। আমাদের দেশে সাধারণত সাদা ও নীল অপরাজিতা পাওয়া যায়।
ফুল কার না ভালো লাগে, ফুল মনকে দেয় প্রশান্তি৷ পৃথিবীতে আছে বাহারি রকমের ফুল। একেক ফুলের একেক বৈশিষ্ট্য। আপরাজিতা ফ্যাবেসি প্রজাতির ফুল। আপনার বেলকুনিতে এই গাছ শোভাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। বেলকুনিতে লতানো সবুজের সাথে নীল ফুল সত্যিই অসাধারণ। আপনার বাসা কিংবা বেলকুনিতে রাখুন অপরাজিতা। যা আপনাকে অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি ওষধি সেবাও করবে।
আপরাজিতা বহুবর্ষজীবী জাতীয় উদ্ভিদ। এটি আমাদের দেশীয় ফুল। ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, অস্টেলিয়া, আফ্রিকায় এই ফুল জন্মে। উদ্ভিদটি প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে সক্ষম। গাছটির শিকড়ে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া গুলি বাতাসের নাইট্রোজেনকে সংগ্রহ করে।
অনেক বাসার ছাদে, ঘরের উঠানে বা বারান্দায় অপরাজিতা রোপন করে থাকে। আপরাজিতা গাছের বেড়ে উঠার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর প্রয়োজন হয়, তাই বারান্দায় রোপনের ক্ষেত্রে আলো পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। গাছের ডাল কেটে বা বীজ রোপন করে এর বংশবিস্তার সম্ভব।বীজ রোপনের ক্ষেত্রে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এই গাছ মাটিতে লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল।
গাছের জন্য উত্তম মাটি দো-আঁশ, তবে মুটামুটি উর্বর এমন মাটিতেও অপরাজিতা ভালো জন্মে।
অপারাজিতা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ। তাই একে পর্যাপ্ত আলো পায় এমন জায়গায় রাখতে হবে। রোদে এই উদ্ভিদে সানন্দে বেড়ে উঠে। তবে এই গাছ কিছুটা ছায়ার মাঝেও বেড়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে ফুল কম ফুটবে। গাছটি লতানো হওয়ায় এটি লম্বায় ১০ ফুট এবং পাশে ২ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। টবে গাছটিকে ঝুলিয়ে রাখা যেতে পারে।
তাপমাত্রার কথায় আসলে গাছটি সর্বোচ্চ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সহ্য করতে পারে। তাপমাত্রা এর বেশি হলে গাছটি বেঁচে থাকতে পারবে না।অপারাজিতা ফুল অনেক প্রাচীন। এর রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা। ঠিকমতো যত্ন নিলে সারাবছর অপরাজিতা ফুল ফোঁটে। নীল অপারাজিতা সাদা অপারাজিতা তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল।
এই ফুল যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি এর রয়েছে নানান ঔষধি গুন। এই গাছ প্রাচীনকাল থেকে ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অপরাজিতার ফুল, পাপড়ি, মূল দিয়ে ভেষজ ঔষধ প্রস্তুত করা হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীদের এই গাছ পবিত্র। দেবী দূর্গার অপর নাম অপরাজিতা। তাই দূর্গাপুজায় ষষ্ঠী ও দশমীতে এর ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। অপরাজিতায় রয়েছে অধিক মাত্রায় ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস। ফলে এর ঔষুধি গুণাবলীও অনেক।
অপরাজিতার নীল চা পলিফেনল ও ফ্লাভোনোয়েড যৌগ লিভার এনজাইমের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে লিভার থাকে সুস্থ সবল। চোখ খচখচ করলে, চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়লে, চোখ জ্বালাপোড়ায় নীল অপরাজিতা খুব কর্যকরি। কয়েকটি নীল অপারাজিতা বেটে চোখে প্রোলেপ দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, প্রয়োজনে একধিকবার ব্যবহার করুন। আপনি চোখের সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করবেন।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি ডায়বেটিস এর অন্যতম কারণ। অপরাজিতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে কাজ করে।বাতের ব্যথার রোগী প্রায়শই দেখা যায়। ৫০০ মিলিগ্রাম অপরাজিতার শিকড় পানি দিয়ে বেটে খেলে বাতের ব্যথার নিরাময় হয়।
স্যাপোনিন ও ফ্লাভোনোয়িড যৌগ অ্যাজমা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অপরাজিতা ফুলে উক্ত যৌগ পাওয়া যায়। যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগছেন তারা ২ গ্রাম পরিমাণ অপরাজিতার বিচি গুড়ো করে গরম দুধে মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। এটি রাতের খাবার পর খাবেন।
অপরাজিতায় রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, এটি আমাদের দেহে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি করতে দেয় না। ফলে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।আপরাজিতা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, যারা দ্রুত ভুলে যায় তাদের চিকিৎসায় অপারাজিতা ব্যবহার করা হয়। হৃদরোগের ঝুঁকিও কমিয়ে থাকে।








Comments
Post a Comment