সূর্যমুখী ফুল
সূর্যমুখী একধরনের একবর্ষী ফুলগাছ। সূর্যমুখী গাছ লম্বায় ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) হয়ে থাকে, ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্যের মত এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর এরূপ নামকরণ।
আজ পৃথিবীতে প্রায় 70 প্রজাতির সূর্যমুখী রয়েছে! সূর্যমুখীর প্রযুক্তিগত শব্দ হল "হেলিয়ান্থাস।" হেলিওস মানে "সূর্য" আর অ্যান্থোস মানে "ফুল।" হেলিয়ানথাস প্রজাতির সকলেরই লম্বা পাপড়ি সহ বড় মাথা রয়েছে যা সূর্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং তাই তারা তাদের সুন্দর নাম পেয়েছে: সূর্যমুখী
বৈজ্ঞানিক নাম : _Helianthus annuus_
বপনের সময়: ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য আগষ্ট-মধ্য অক্টাবর)। চাষপদ্ধতি: জমির প্রকারভেদে জমিতে ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে ও আগাছামুক্ত করে বীজ বপন করতে হবে। বীজ লাইনে বপন করা উত্তম। লাইন থেকে লাইন দূরত্ব ২০ ইঞ্চি এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১০ ইঞ্চি রাখতে হয়।
সূর্যমুখী পূর্ণ, উজ্জ্বল রোদে এবং সমানভাবে আর্দ্র, সুনিষ্কাশিত মাটিতে সবচেয়ে ভালো জন্মায়। তাদের কতটা জায়গা প্রয়োজন তা নির্ভর করে কোন জাতের চাষ করা হয়েছে তার উপর। একটি কান্ডে একাধিক ফুলের শাখা প্রশাখার জন্য বড় একক ফুলের চেয়ে অনুভূমিকভাবে বেশি স্থান প্রয়োজন।
এর বীজ হাঁস মুরগির খাদ্যরূপে ও তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই বীজ যন্ত্রে মাড়াই করে তেল বের করা হয় ৷ তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। সমভুমি এলাকায় শীত ও বসন্তকালে, উঁচু লালমাটি এলাকায় বর্ষাকালে ও সমুদ্রকুলবর্তী এলাকায় শীতকালীন শস্য হিসাবে চাষ করা হয়।
১৯৭৫ সাল থেকে সূর্যমুখী একটি তেল ফসল হিসেবে বাংলাদেশে আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর জেলা, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাংগাইল প্রভৃতি জেলাতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে।
সূর্যমুখীর তেল ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বনস্পতি তেল নামে পরিচিত। এই তেল অন্যান্য রান্নার তেল হতে ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত কম। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে







Comments
Post a Comment