Ipomoea quamoclit (কুঞ্জলতা)

 


  কুঞ্জলতা লতা জাতীয় উদ্ভিদের ফুল। অন্যান্য নামগুলো হলো তরুলতা, কামলতা, তারালতা, গেইট ফুল, গেইট লতা, সূর্যকান্তি ইত্যাদি।



   ইংরেজিতে একে cypress vine, cypressvine morning glory, cardinal creeper, cardinal climber, hummingbird vine ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। কুঞ্জলতা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Ipomoea quamoclit বা Quamoclit pinnata যা Convolvulaceae পরিবারের সদস্য। এটি দুনিয়ার প্রায় সকল ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। ভারতের তামিল ভাষায় এর নাম 'mayil manikkam' (তামিল: மயில் மாணிக்கம்) এবং মালায়ালাম ভাষায় একে বলে ākāśamulla। নেপালী ভাষায় এর নাম 'জয়ন্তী ফুল'। 



  এই ফুল গুলি সকালে ফোটে বলে একে সূর্যকান্তি বলে। পাঁচ কোনা বিশিষ্ট তারকাকৃতি ফুল হয় বলে একে তারালতা নামেও ডাকা হয়।বল এর জনপ্রিয় নামকরণ।  এটি একবর্ষজীবি লতা, ১-৩ মিটার লম্বা হয়। এর পাতা ২-৯ সেমি লম্বা, গভীরভাবে খন্ডিত, পাতার প্রত্যেক পাশে ৯-১৯টি করে খন্ড থাকে। এর ফুল ৩-৪ সেমি লম্বা এবং ২ সেমি ব্যাসবিশিষ্ট, মাইক আকৃতির, পাপড়িতে ৫টি সূচালো অগ্রভাগ থাকে। এটি লাল, গোলাপি বা সাদা হতে পারে। এর ফুল হয় গ্রীষ্মকালে। ফুল ঝরে গিয়ে ছোট ফল হয়, যাতে কালো বীজ থাকে। বীজ থেকে এর বংশ বিস্তার হয়।



  ফুটন্ত ফুল দেখতে খুবই মনোরম। ফুল গন্ধহীন। এর লাল গোলাপি, সাদা রংয়ের ফুলের প্রজাতি রয়েছে। তবে লাল রংয়ের ফুল বেশি ফুটতে দেখা যায়। ফুল ফোটার মৌসুম গ্রীষ্মকাল এবং এর ব্যাপ্তি হেমন্তকাল পযর্ন্ত। ফুল শেষে গাছে ছোট আকৃতির ফল ধরে। ফলের ভেতর থাকে বীজ। পরিপক্ক বীজের রং কালো। বীজ থেকে বংশ বিস্তার করা হয়।



   সুনিষ্কাশিত রৌদ্রউজ্জ্বল উঁচু ভ‚মি ও দোআঁশ থেকে বেলে দোআঁশ মাটি এ ফুল উৎপাদনের জন্য বেশি উপযুক্ত। বাড়ির গেট, সীমানার বেড়া বা অন্যান্য বাউনি সৃষ্ট স্থানে এ ফুল উৎপাদন সম্ভব। বাউনি ছাড়া এ ফুল গাছ টিকে থাকতে পারে না। আমাদের দেশের প্রায় সবর্ত্রই বাসাবাড়ি বাগান, ছাদ বাগান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে এ ফুল গাছ চোখে পড়ে। 



  যাদের রাতে ভাল ঘুম হয়না তারা কুঞ্জলতা গাছের শুকনো ডাল ও পাতার গুঁড়ো ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে সমপরিমাণ মধু বা চিনি মিশিয়ে সেটি শোয়ার আগে খেলে অনিদ্রা কেটে যায়।



  কোথাও কেঁটে গিয়ে বা আঘাত লেগে শরীরে যদি বিষাক্ত ঘা হয়ে যায় তবে কুঞ্জলতার কচি ডাল পাতা বেঁটে তার রস দিয়ে ঘা ভালবাবে ধুয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়।কুঞ্জলতার শুকনো গাছের গুঁড়ো ঘায়ের উপর ছড়িয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। পিঠে ফোঁড়া হলে কুঞ্জলতার পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পেকে ফেটে যায়।অর্শ রোগ কমাতে কুঞ্জলতা গাছের পাতা বেঁটে ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে উচ্চ রক্ত চাপের রোগীর অর্শ রোগ সারাতে ঘি ছাড়াই খাওয়া উচিত। 

Comments

Popular posts from this blog

তন্বি ও পাখি

ঝিঁঝিঁ পোকা (Cicada) Molting

প্রজাপতি ও পিপি